![]() |
(জুলাই আন্দোলনে ডাক্তারদের পক্ষে থেকে বক্তব্য) |
খুলনা মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন কমিটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
খুব শিগগিরই মহানগর কমিটি ঘোষণা হতে পারে এমন আলোচনা রয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। আর সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে আসছে চিকিৎসক ও তরুণ রাজনৈতিক কর্মী ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরীর নাম। তাকে খুলনা মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক হিসেবে দেখতে চান দলের অঙ্গসংগঠন যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির অনেক নেতাকর্মী এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।
জুলাই আন্দোলনের সময় চিকিৎসকদের সংগঠিত করে আহতদের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখা, ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে সোচ্চার থাকা এবং পরবর্তী সময়ে খুলনার রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়তার কারণে ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরী নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। বিশেষ করে জুলাইয়ের সময়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে দেওয়া তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসায় ঢাকায় চিকিৎসকদের একটি সংগঠিত দল নিয়েও তিনি কাজ করেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পথচলা অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। ২০২৩ সালের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরেও আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। সে সময় সামাজিক সংগঠন আগুয়ান-৭১ থেকে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তরুণ প্রজন্মের একজন হিসেবে সে সময়ের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিবেশে তার অংশগ্রহণও ছিল বেশ আলোচিত।
এরপর জুলাই-পরবর্তী সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়ে খুলনার রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হন তিনি। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তার উপস্থিতি ক্রমেই দৃশ্যমান হয়েছে। তার নেতৃত্বের ধরন, বক্তব্যের ভাষা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও দলের ভেতরে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে।
জুলাইয়ে চিকিৎসকদের সংগঠিত করে আহতদের পাশে
জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরীর পরিচিতি শু
ধু রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, একজন চিকিৎসক ও আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবেও সামনে আসে। ওই সময়ে চিকিৎসকদের একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে আহতদের চিকিৎসায় কাজ করার উদ্যোগ নেন তিনি। ঢাকায় আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের একটি দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
জুলাইয়ের উত্তাল সময়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে দেওয়া তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে তার অবস্থান এবং চিকিৎসকদের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে দেওয়া বক্তব্য তখন অনেকের নজরে আসে।
আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসার বিষয়টিকে তিনি মানবিক দায়িত্ব হিসেবে দেখেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য। চিকিৎসক হিসেবে নিজের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সংকটের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকেও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
জুলাই-পরবর্তী সময়ে এই ভূমিকার কারণে তরুণদের একটি অংশের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। বিশেষ করে চিকিৎসক সমাজের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সচেতন তরুণদের মধ্যেও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
২০২৩ সালের নির্বাচনেই আলোচনায় আসেন
![]() |
| সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০২৩ |
তৎকালীন প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে আগুয়ান-৭১ তাকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, আব্দুল্লাহ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে খুলনার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
তরুণ বয়সে বড় একটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত সে সময় তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। নির্বাচনী মাঠে তখন নানা প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি থাকলেও তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
তৎকালীন সময়ে আগুয়ান-৭১ নগর পরিচালনায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা এবং নাগরিক ভোগান্তি কমানোর মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তরুণদের অংশগ্রহণ ও নাগরিক সচেতনতার বিষয়টিও তার রাজনৈতিক চিন্তাভাবনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
তার রাজনৈতিক বক্তব্যের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে সামনে এসেছে ভাষার সংযত ব্যবহার। রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে যুক্তি ও নীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কারণে তরুণদের একটি অংশ তার প্রশংসা করেছে।
এনসিপিতে সক্রিয়তার পর খুলনার মাঠে দৃশ্যমান ভূমিকা
জুলাই-পরবর্তী সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠনের পর থেকেই ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরী দলটির কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বিশেষ করে খুলনায় দলটির বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।
তার নেতৃত্বে খুলনায় বেশ কিছু কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করে। শুধু কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা নয়, মাঠের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রাখার বিষয়টিও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্মসূচির আগে ও পরে নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া, তাদের সমস্যার কথা শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করেন তিনি এমনটাই জানিয়েছেন তার সঙ্গে কাজ করা কয়েকজন নেতাকর্মী।
তার বক্তব্যের ধরনও দলের ভেতরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান থাকলেও বক্তব্যে তুলনামূলকভাবে মার্জিত ও সংযত ভাষা ব্যবহার করেন তিনি। এ কারণে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় তরুণদের একটি অংশ মনে করে, শিক্ষিত ও পেশাজীবীদের রাজনীতিতে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন।
![]() |
| NCP |
বিশেষ করে দলের যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরীকে খুলনা মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক হিসেবে দেখতে আগ্রহী। তাদের মতে, চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত পরিচয়, জুলাইয়ের ভূমিকা, দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়তা সব মিলিয়ে মহানগরের নেতৃত্বে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য মুখ হতে পারেন।
কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় সাক্ষাৎকার, আলোচনায় আব্দুল্লাহর নাম
খুলনা জেলা ও মহানগর এনসিপির আহ্বায়
ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। গত ২০ আগস্ট খুলনায় জেলা ও মহানগরের নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও সারোয়ার তুষারের উপস্থিতিতে আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। তাদের সঙ্গে ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক।
সাক্ষাৎকার শেষে সারজিস আলম জানান, খুলনা জেলা ও মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ হয়েছে এবং দ্রুত কমিটি ঘোষণার উদ্যোগ রয়েছে। একই সময়ে জেলা ও মহানগরের নবগঠিত যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাদের সঙ্গে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ও করা হয়।
কমিটি গঠনের এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরীর নাম নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে মহানগর আহ্বায়ক হিসেবে তার নাম এখনো দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো আলোচনা ও সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে।
আগুয়ান-৭১ থেকে রাজনৈতিক সচেতনতার দীর্ঘ পথ
ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরীর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছে আগুয়ান-৭১। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক হিসেবে তিনি তরুণদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সচেতন করার কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
আগুয়ান-৭১কে ঘিরে তার কর্মকাণ্ডের অন্যতম লক্ষ্য ছিল তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সচেতন করা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক শিষ্টাচার, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কে তরুণদের ধারণা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার ফলে রাজনৈতিক মাঠে তার একটি নিজস্ব পরিচিতি তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালের নির্বাচনী অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে জুলাইয়ের আন্দোলন, আহতদের চিকিৎসায় ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম, প্রতিটি পর্যায়েই তার কর্মকাণ্ড তাকে আলোচনায় রেখেছে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার কারণেও বিভিন্ন সময়ে তিনি আলোচনায় এসেছেন। তার বক্তব্যে তুলনামূলকভাবে মার্জিত ও সংযত ভাষা ব্যবহার এবং রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে স্পষ্টতা অনেকের নজর কেড়েছে।
তরুণদের একটি অংশ মনে করে, রাজনীতিতে শিক্ষিত ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ বাড়লে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরীকে ঘিরে এমন প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে বলে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।
সব মিলিয়ে জুলাইয়ের আন্দোলনে চিকিৎসকদের সংগঠিত করে আহতদের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের নির্বাচনী মাঠ, আগুয়ান-৭১-এর সামাজিক-রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে এনসিপির খুলনা মহানগরের মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয়তা, ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরীর রাজনৈতিক পথচলা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে বিস্তৃত।
এখন খুলনা মহানগর এনসিপির নতুন কমিটি ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা। সেই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরীর নাম আসবে কি না, সেটিই এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার অন্যতম বিষয়। তবে দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তার সম্ভাব্য পদটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
.png)

(1).png)






